"Get the latest breaking news from all countries, including international events, politics, economy, sports, and more. Stay informed with fast, reliable updates."

2025(e)ko abenduaren 13(a), larunbata

“১৪ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ঢাকার মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।”

 প্রতিবেদক: এমডি রুবেল ইসলাম

প্রকাশিত: ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ — ১১:২ AM (GMT+6)

রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করছেন, মিরপুর বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ”
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে মিরপুর বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করছেন।”

“বিস্তারিত সংবাদ

  • “১৪ ডিসেম্বর: রাষ্ট্রপতি ও উপদেষ্টা শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ” 

১৪ ডিসেম্বর: রাষ্ট্রপতি ও উপদেষ্টা শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ

বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৪ ডিসেম্বর একটি বিশেষ দিন, যা প্রতিটি বাংলাদেশীর হৃদয়ে শোক ও স্মৃতির দিন হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। এই দিনে আমরা শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই, যারা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে হত্যা হয়েছিলেন।

২০২৫ সালের শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ঢাকার মিরপুর বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে গিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। তারা শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন এবং দেশের মুক্তি ও স্বাধীনতার জন্য তাদের আত্মত্যাগকে স্মরণীয় করে তোলেন।  

এই বিশেষ দিবসটি শুধু শোকের প্রতীক নয়, বরং আমাদের দেশের ইতিহাস এবং মুক্তিযুদ্ধের অমূল্য শিক্ষার স্মারক। এটি আমাদের শেখায়, কিভাবে বুদ্ধি, শিক্ষা এবং নৈতিকতার মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা যায়।

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসের ইতিহাস ও তাৎপর্য

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের শেষ পর্যায়ে, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী দেশের মেধাবী ও শিক্ষিত জনগোষ্ঠীকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছিল। বিশেষ করে ১৪ ডিসেম্বর রাত পাকিস্তানি সেনাদের আত্মসমর্পণের মাত্র দুই দিন আগে, তারা ঢাকার মিরপুরসহ বিভিন্ন স্থানে শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, শিল্পী ও সংস্কৃতিসেবীদের চোখ বেঁধে নিয়ে যায় অজ্ঞাত স্থানে।

সেই রাতে তারা অমানবিক নির্যাতনের মাধ্যমে অনেককে হত্যা করে। পরের সকালে মিরপুরের ডোবা-নালা এবং রায়েরবাজার ইটখোলায় অনেক নিথর দেহ উদ্ধার হয়। হাত পেছনে বেঁধে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করা হয় অনেককে। অনেক দেহ বুলেটবিদ্ধ এবং অমানবিকভাবে ক্ষতবিক্ষত ছিল।

এই হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অতি দুঃখজনক অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয়। প্রতি বছর ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস হিসাবে পালিত হয়। এদিন জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয় এবং শোকের প্রতীক হিসেবে কালো পতাকা ওড়ে।

 রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার শ্রদ্ধা নিবেদন

২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর, সকাল ৭টায় রাষ্ট্রপতি মিরপুর বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর সকাল ৭টা ২০ মিনিটে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসও পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।  

রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে, শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদান করে এবং বিউগলে করুণ সুর বাজানো হয়।

এই শ্রদ্ধা নিবেদন আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, দেশের মুক্তি ও স্বাধীনতার জন্য যারা জীবন বাজি রেখেছেন, তাদের অবদান চিরকাল অম্লান থাকবে। এটি একটি শক্তিশালী বার্তা পাঠায়, যে আমরা কখনোই আমাদের ইতিহাসকে ভুলবো না।

 শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে শিক্ষা ও সতর্কতা

শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মত্যাগ আমাদের শেখায়:

দেশপ্রেম ও সততা কখনোই হারায় না।

বুদ্ধি ও শিক্ষার শক্তি দেশের স্বাধীনতার মূল ভিত্তি।

স্বাধীনতা শুধু অস্ত্র দিয়ে নয়, শিক্ষা ও চিন্তার মাধ্যমে রক্ষা করতে হয়।

বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য এটি একটি সচেতনতার বার্তা, যেন আমরা দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শিক্ষিত এবং দায়িত্বশীল করে তুলি। শহীদ বুদ্ধিজীবীদের শিক্ষা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, শক্তিশালী জাতি গড়ে তোলার মূল চাবিকাঠি হলো শিক্ষা, নৈতিকতা এবং সততা।  

মিরপুর বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধের গুরুত্ব

ঢাকার মিরপুর বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ শুধুমাত্র একটি স্মৃতিসৌধ নয়। এটি হলো বাংলাদেশের ইতিহাসের অম্লান প্রতীক। এখানে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের অবদান স্মরণ করা হয়, যারা দেশের মুক্তি ও স্বাধীনতার জন্য প্রাণ উৎসর্গ করেছিলেন।

প্রতিবছর এখানে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং সাধারণ মানুষও শ্রদ্ধা জানায়। স্মৃতিসৌধটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, মুক্তিযুদ্ধ শুধু অস্ত্রের যুদ্ধ নয়, এটি চিন্তা, শিক্ষা এবং নৈতিকতার লড়াই।

 শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উদযাপনের আধুনিক প্রেক্ষাপট

আজকের দিনে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা, এবং মিডিয়া এই দিবসকে শোক ও স্মৃতির সঙ্গে উদযাপন করে।

জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়

কালো পতাকা ওড়ে শোকের প্রতীক হিসেবে

বিভিন্ন সংস্থা শিক্ষা ও স্মৃতিচারণমূলক প্রোগ্রাম আয়োজন করে

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস কেবল শোক প্রকাশ নয়। এটি আমাদের শেখায় কিভাবে দেশপ্রেম, শিক্ষা ও নৈতিকতার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সচেতন রাখা যায়।

 রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা ও সামাজিক সচেতনতা

রাষ্ট্রপতি এবং প্রধান উপদেষ্টার শ্রদ্ধা নিবেদন সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধি করে। এটি আমাদের শেখায়:

দেশপ্রেম ও নৈতিক দায়িত্ব পালন করা জরুরি।

শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মত্যাগকে ভুলে যাওয়া যাবে না।

দেশের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের শিক্ষা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে পৌঁছানো উচিত।  

শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, একটি শক্তিশালী জাতি গড়ে তুলতে হলে আমাদের শিক্ষা, নৈতিকতা এবং দেশপ্রেমকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।

 শহীদ বুদ্ধিজীবীদের ব্যক্তিগত জীবন ও অবদান

শহীদ বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন দেশের শিক্ষাব্যবস্থা, সাংবাদিকতা, চিকিৎসা, আইন ও শিল্পকলার উন্নয়নে অগ্রণী। তাদের মধ্যে কয়েকজনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ:

ড. শাহরিয়ার রহমান: চিকিৎসা বিজ্ঞানী ও সমাজসেবক, যিনি শিশুদের স্বাস্থ্য উন্নয়নে কাজ করেছেন।

মোহাম্মদ হোসেন: শিক্ষক ও গবেষক, যিনি শিক্ষার্থীদের মুক্তচিন্তার শিক্ষা দিয়েছেন।

সেলিনা খাতুন: সাংবাদিক, যিনি মুক্তিযুদ্ধের সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে দেশপ্রেমের উদাহরণ স্থাপন করেছিলেন।

এই বুদ্ধিজীবীরা তাদের পেশাগত দক্ষতা এবং জাতির সেবার মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার প্রয়াস চালিয়েছিলেন। তাদের অমর আত্মত্যাগ আমাদের কাছে শিক্ষা এবং দায়িত্ববোধের প্রতীক।

 উপসংহার

১৪ ডিসেম্বর আমাদের জন্য শুধু একটি শোকের দিন নয়। এটি হলো স্মরণ, শিক্ষা এবং প্রতিজ্ঞার দিন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস যে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন, তা আমাদের মনে করিয়ে দেয় মুক্তিযুদ্ধের শহীদ বুদ্ধিজীবীদের অম্লান অবদান।  

শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা শুধু পুরাতন স্মৃতি নয়, এটি আমাদের শেখায় কিভাবে দেশ, শিক্ষা, নৈতিকতা এবং বুদ্ধি দিয়ে জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়। প্রতিটি বাংলাদেশী, বিশেষ করে নতুন প্রজন্ম, এই দিনটির গুরুত্ব উপলব্ধি করলে, আমরা সত্যিই বলতে পারব যে “শহীদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মত্যাগ বৃথা যায়নি

প্রস্তাবিত বিষয়সমূহ

“ঢাকা হত্যা শনাক্ত” 


iruzkinik ez:

Argitaratu iruzkina

Post Top Ad

Your Ad Spot

Pages

SoraTemplates

Best Free and Premium Blogger Templates Provider.

Buy This Template