জাতীয় কবির ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ: কাজী নজরুল ইসলামের জীবন, সাহিত্য ও অবদান
বাংলা সাহিত্য, সংগীত ও সংস্কৃতির ইতিহাসে অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র কাজী নজরুল ইসলাম। তিনি আমাদের জাতীয় কবি। আজ তাঁর ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী, এদিনে সর্বত্র শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হচ্ছে এই মহামানবকে। তাঁর সাহিত্য, গান, কবিতা, প্রবন্ধ, নাটক, সংগীত এবং বিদ্রোহী চিন্তাধারা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
কাজী নজরুল ইসলামের সংক্ষিপ্ত জীবন
কাজী নজরুল ইসলাম ১৮৯৯ সালের ২৪ মে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। অল্প বয়সে পিতৃহারা হয়ে দারিদ্র্যের মধ্য দিয়েই বেড়ে ওঠেন তিনি। অল্প বয়সেই লেটো দলে যোগ দেন এবং গান-কবিতা রচনা শুরু করেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। সেই অভিজ্ঞতা তাঁর কবিতায় যুদ্ধের চেতনা ও সংগ্রামী মানসিকতা গড়ে তোলে।
সাহিত্য ও সংগীতে অবদান
নজরুল ছিলেন একাধারে কবি, সংগীতজ্ঞ, গীতিকার, নাট্যকার, ঔপন্যাসিক ও প্রাবন্ধিক। তাঁর সবচেয়ে বিখ্যাত কবিতা “বিদ্রোহী”, যা তাঁকে বিদ্রোহী কবির খ্যাতি এনে দেয়। তাঁর কবিতায় শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, মানবতার মুক্তি, সাম্যের বার্তা প্রতিফলিত হয়েছে।
তিনি ৪,০০০ এরও বেশি গান লিখেছেন ও সুরারোপ করেছেন, যা “নজরুল সংগীত” নামে পরিচিত। তাঁর গান ধর্মীয় সম্প্রীতি, প্রেম, মানবতা ও বিপ্লবের বার্তা বহন করে।
জাতীয় কবি উপাধি
১৯৭২ সালের ২৪ মে, কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশের জাতীয় কবি হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তাঁকে সপরিবারে বাংলাদেশে আনা হয় এবং রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মসজিদের পাশে সমাহিত করা হয়। এখানেই কবির চিরনিদ্রা।
তাঁর ভাবনার আজকের প্রাসঙ্গিকতা
আজকের দিনে, যখন সমাজে বৈষম্য, সহিংসতা ও বিভাজন দেখা দেয়, তখন নজরুলের রচনা আমাদের জন্য পথপ্রদর্শক। তাঁর কবিতা ও গান আমাদের শেখায় মানবতার জয়গান, সাম্যের প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায়ের সংগ্রাম।
৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধাঞ্জলি
আজ তাঁর ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী। সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। কবির কবিতা পাঠ, নজরুল সংগীত পরিবেশনা, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। গণমাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে তাঁর রচনা ও স্মৃতিচারণ।
উপসংহার
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের জাতিসত্তার অমূল্য সম্পদ। তাঁর রচনা শুধু সাহিত্য নয়, মানবতার মুক্তির দিশারী। আজকের প্রজন্মের জন্য তাঁর জীবন ও সাহিত্য এক অনন্য প্রেরণা।
এই দিনে আমরা সবাই একসাথে বলি—
“জাতীয় কবির ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ, তবুও তিনি বেঁচে আছেন আমাদের হৃদয়ে, তাঁর অমর কবিতা ও গানে।”


iruzkinik ez:
Argitaratu iruzkina