---
পিআর বা গণপরিষদের দাবি: মাঠ গরম করার রাজনৈতিক কৌশল
বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রতিটি সময়েই নতুন নতুন কৌশল দেখা যায়। কখনো আন্দোলনের ডাক, কখনো সমাবেশ, আবার কখনো সংসদ বা নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কারের দাবি। এর মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে আলোচিত হয়েছে “পিআর বা গণপরিষদের দাবি”। এই দাবিকে কেন্দ্র করে মাঠ গরম করার রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে সর্বত্র।
পিআর বা গণপরিষদ কী?
পিআর বলতে সাধারণভাবে Proportional Representation বা আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বোঝানো হয়। এই পদ্ধতিতে জনগণের ভোট সরাসরি সংসদীয় আসনে প্রতিফলিত হয়। অর্থাৎ কোনো রাজনৈতিক দল যদি জাতীয় পর্যায়ে ৩০% ভোট পায়, তবে তারা সংসদে প্রায় ৩০% আসন পাবে। অন্যদিকে গণপরিষদ শব্দটি ব্যবহার করা হয় একটি অন্তর্বর্তী বা বিশেষ প্রতিনিধিত্বশীল সংসদ বোঝাতে, যা নতুন সংবিধান প্রণয়ন বা বড় কোনো রাজনৈতিক সংস্কারের উদ্দেশ্যে গঠিত হয়।
কেন এই দাবি সামনে আনা হচ্ছে?
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিরোধী দলগুলো মনে করছে, প্রচলিত নির্বাচন ব্যবস্থা তাদের পক্ষে ন্যায্য নয়। তারা মনে করে, প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতাসীন দলের হাতে থাকায় সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে তারা দাবি তুলছে “পিআর বা গণপরিষদের দাবি”, যাতে করে একটি অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থার মাধ্যমে সবাই সমান সুযোগ পায়।
মাঠ গরম করার কৌশল
বাংলাদেশের রাজনীতিতে দাবি তোলা শুধু দাবি তোলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর মাধ্যমে রাজনৈতিক মাঠ গরম করার কৌশলও বাস্তবায়িত হয়।
মিছিল-মিটিং: দাবিকে ঘিরে বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ ও র্যালি আয়োজন করা হয়, যা মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
প্রচারণা: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে দাবি জনপ্রিয় করে তোলা হয়।
সংলাপের চাপ: সরকারকে সংলাপে বাধ্য করার জন্য দাবি ক্রমেই রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়।
আন্তর্জাতিক মহলকে বার্তা: এমন দাবির মাধ্যমে বিরোধী দলগুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জানায় যে, দেশে গণতান্ত্রিক সংকট রয়েছে।
রাজনৈতিক তাৎপর্য
“পিআর বা গণপরিষদের দাবি মাঠ গরম করার রাজনৈতিক কৌশল” আসলে দ্বিমুখী। একদিকে এটি জনগণের কাছে একটি ন্যায্য দাবির মতো শোনায়, অন্যদিকে এটি সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। ইতিহাসে দেখা গেছে, বিভিন্ন সময়ে বিরোধী দলগুলো বড় কোনো দাবি সামনে এনে মাঠ আন্দোলনকে শক্তিশালী করেছে এবং শেষ পর্যন্ত সরকারকে সমঝোতায় আসতে বাধ্য করেছে।
সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের প্রতিক্রিয়া
ক্ষমতাসীন দল সাধারণত এমন দাবিকে অবাস্তব বা অযৌক্তিক বলে আখ্যা দেয়। তাদের মতে, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে, গণপরিষদ বা পিআর ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো প্রয়োজন নেই। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দাবির যৌক্তিকতা যতটা না গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো এটি কতটা জনগণকে নাড়া দিতে পারে।
ভবিষ্যৎ প্রভাব
বাংলাদেশের রাজনীতিতে পিআর বা গণপরিষদের দাবি হয়তো তৎক্ষণাৎ বাস্তবায়িত নাও হতে পারে। তবে এটিকে কেন্দ্র করে যে রাজনৈতিক মাঠ গরম হচ্ছে, সেটি আসন্ন নির্বাচন ও ক্ষমতার ভারসাম্যের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে তরুণ ভোটাররা যদি মনে করে, এ দাবির মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচনের সম্ভাবনা বাড়ছে, তবে বিরোধী আন্দোলন আরও গতি পেতে পারে।
উপসংহার
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে প্রতিটি বড় পরিবর্তন এসেছে দাবির মাধ্যমে। কখনো ছাত্র আন্দোলন, কখনো গণআন্দোলন – সবকিছুর সূচনা হয়েছে একটি নির্দিষ্ট দাবিকে কেন্দ্র করে। তাই বলা যায়, “পিআর বা গণপরিষদের দাবি মাঠ গরম করার রাজনৈতিক কৌশল” শুধুই একটি স্লোগান নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী কৌশলের অংশ, যা রাজনীতিকে নতুন মোড়ে নিয়ে যেতে পারে।


iruzkinik ez:
Argitaratu iruzkina